নমস্কার, আমি রাজা সাহা। বর্তমান বাসস্থান উত্তর চব্বিশ পরগণার বারাসত। পেশায় আইটি কর্মী। ঘুরতে ভীষণ ভালোবাসি। ‘পথ চলাতেই আনন্দ’, আমার ব্যক্তিগত ভ্রমণমূলক ওয়েবসাইট। এখানে আপনারা ভ্রমণ সংক্রান্ত গল্প, ইতিহাস, ডকুমেন্টেশন-এর প্রবন্ধ, ছবি ও ভিডিও দেখতে পাবেন।

আমার শৈশব কেটেছে নিউ ব্যারাকপুরে। ছেলেবেলায় ভ্রমণের সুযোগ খুব একটা হয়ে ওঠেনি। প্রতিবছর শীতকালে বাবা-মায়ের হাত ধরে চিড়িয়াখানা, ভিক্টোরিয়া, বেলুড় বা দক্ষিণেশ্বর - এই একই বৃত্তের মধ্যে ঘোরাফেরা করেছি! কলকাতার প্রতি একটা সুপ্ত ভালোবাসার জন্ম তখন থেকেই। এরপর পঞ্চম শ্রেণীর পড়াশোনা শুরু হয় বনগাঁ থেকে। এ-পর্যায়ে বন্ধুদের সাথে ঘুরে বেড়িয়েছি বনগাঁর আশেপাশে। উচ্চ বিদ্যালয়ের গন্ডি পেরিয়ে কলেজে প্রবেশের মাঝে, একবার এক বন্ধুর সাথে দক্ষিণ ভারত যাওয়া ছাড়া আর বলার মত বিশেষ কিছু নেই। কলেজ জীবনেও কলকাতার বাইরে খুব একটা বেরোতে পারিনি!

প্রকৃতপক্ষে ঘর ছেড়ে স্বাধীন হওয়ার সুযোগ এল ২০১০ সালে। আমাদের কলেজের কিছু ভ্রমণ পাগল বন্ধুদের ‘পাল্লায়’ পড়ে পাহাড়ে গেলাম। জীবনে প্রথমবার পাহাড় যাওয়া। তার ওপর ট্রেকিং। সেসময় থেকেই পথের নেশা আমায় পেয়ে বসল! ওই বছরেই তৈরি হল আমাদের দল ‘ড্রিম ওয়ান্ডারলাস্ট’ - যা পরবর্তীতে অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস সম্পর্কিত খবরের মাধ্যম হিসেবে জনপ্রিয়তা পায়। ২০১৪ পর্যন্ত, গতানুগতিক ভ্রমণের পাশাপাশি, বছরে একবার করে ট্রেকিং জারি রেখেছিলাম। এরপর দল ট্রেকিং চালিয়ে গেলেও, আমি ব্যক্তিগত কারণে ছোটোখাটো সফরেই বেশি মনোনিবেশ করলাম। এর মাঝে ২০১৭ সালে, বনগাঁ ছেড়ে আমার নতুন ঠিকানা হল বারাসত। ড্রিম ওয়ান্ডারলাস্ট-এর হয়ে বিভিন্ন কাজের মধ্যে দিয়ে কেটে গেল পরের বেশ কয়েকটি বছর।

২০২২-এ ঠিক করলাম, নিজের একটা ইউটিউব চ্যানেল খুলব। ততদিনে কোভিড-পরবর্তী সময়ে, সারা বিশ্বে অডিও-ভিজ্যুয়াল তথা ইউটিউব-এর জনপ্রিয়তা ঊর্ধ্বমুখী। ওই বছরেই, পুনরায় ট্রেকিং-এ যাওয়ার মধ্যে দিয়ে ভিডিও করা শুরু করলাম। চ্যানেলের নাম খুঁজতে বসে কিছুতেই পছন্দমতো নাম মাথায় না-আসায়, রবীন্দ্রনাথেই আশ্রয় নিতে হল! ওনার গানের লাইন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নাম দিলাম - ‘পথ চলাতেই আনন্দ’। প্রধানত বাংলা ভাষাতেই কাজ করার দু’টি কারণ আছে - প্রথম, নিজের মাতৃভাষাতে স্বাচ্ছন্দ ও তার প্রতি ভালোবাসা। দ্বিতীয়, বাংলা ভাষা তথা বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতির এই সংকটজনক সময়ে এই ভাষায় আরও বেশি বেশি কাজ হওয়া প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। যাইহোক, ২০২৩-এর এপ্রিল মাসে আমার ইউটিউব-এ যাত্রা শুরু। পরবর্তী দু’বছরে, আমার সংগ্রহের অনেক ভিডিও-র থেকে, অল্প কিছু সংখ্যক ইউটিউব-এ আপলোড করতে পেরেছি মাত্র!

বিগত পনেরো বছরে, ড্রিম ওয়ান্ডারলাস্ট-এর হয়ে দেশ-বিদেশের অ্যাডভেঞ্চার সম্পর্কিত খবর নিয়ে কাজ করতে করতে আমাদের নিজেদের গল্পগুলো না-বলাই থেকে গেছে। বন্ধু, সহযাত্রীদের সাথে আড্ডায় কখনও কখনও উঠে আসে বটে। তবে ওইটুকুই। ফি বছর গল্পের ঝুলি আরও ভরতে থাকে নিয়ম করে। ড্রিম ওয়ান্ডারলাস্ট-এর সাথে এবং ব্যক্তিগত পরিসরে সে সঞ্চয়ও নেহাত কম নয়। এতদিন ভ্রমণের স্মৃতি হিসেবে বহু ছবি, বন্ধুদের কম্পিউটার, মোবাইল, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। ওদেরকে একটু ঝেড়ে-বেছে, ‘একই ছাদের নিচে’ সাজিয়ে-গুছিয়ে রাখার প্রয়োজন থেকেই এবার একটি ওয়েবসাইট-এর প্রয়াস। তাছাড়া বর্তমান ও ভবিষ্যতে যেসব গল্প তৈরি হচ্ছে বা হবে, সেগুলিও এখানে স্থান পাবে। বিভিন্ন সময়ে যেসকল পরিচিতরা সফর শেষের অভিজ্ঞতার কথা জানতে চায়, তাদের সাথেও আনন্দ ভাগ করে নেওয়া যাবে।

কী কী থাকবে এখানে?

সাধারণ ভ্রমণ কাহিনী, তথ্য নির্ভর ডকুমেন্টেশন, যাত্রাপথের কোনো অনুভূতির স্মৃতিচারণ যেমন থাকবে, তেমনই কোনো জায়গার আঞ্চলিক ইতিহাস - সেখানকার মানুষের ঐতিহ্য, সংস্কৃতির কথা, ভ্রমণসঙ্গী ও পথ-চলতি মানুষের গল্প ও তাদের সাথে কথোপকথনও থাকবে। তথ্যের ক্ষেত্রে আমি বিভিন্ন সম্পর্কিত মানুষের কথাবার্তা, বই, পত্রপত্রিকা, গবেষণাপত্র এবং অন্যান্য প্রকাশিত নথির ওপর অনেকটাই নির্ভর করি। বিশ্বাসযোগ্যতার স্বার্থে সেসবেরও উল্লেখ থাকবে। ভ্রমণ সংক্রান্ত সাধারণ বিষয়গুলিকে নতুন মোড়কে উপস্থাপনের পাশাপাশি, অপেক্ষাকৃত কম কাজ হওয়া বিষয়কে ডকুমেন্ট করাই বেশি গুরুত্ব পাবে এখানে। বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সারা বিশ্বের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করেছে। আমি এর বিরোধী নই। কাজের গুনমান বৃদ্ধির স্বার্থে এআই-এর ব্যবহারে সুফল পাওয়ার সুযোগ থাকলে, সঠিক নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার থাকতে পারে! ছোট থেকে ছোট হয়ে চলা জেন-জ়ি কন্টেন্ট-এর জামানায়, সিরিয়াস চর্চারও আলাদাই গুরুত্ব আছে বলে আমি বিশ্বাস করি। তাদেরকে গ্রহণ বা বর্জনের সম্পূর্ণ দায়িত্ব পাঠক-দর্শকদের।

এইধরনের কাজে আশেপাশের মানুষের সমর্থন, উৎসাহ অনুঘটকের কাজ করে। বন্ধু, সুহৃদের অনেকেই ইতিমধ্যে আগ্রহ দেখিয়েছে। বিভিন্ন গল্পের মধ্যে তাদের কথা উল্লেখ থাকবে। তবে কয়েকজনের নাম এখানে না-নিলেই নয়। তমাল বন্দ্যোপাধ্যায়, সুমন চক্রবর্তী, মনোজিৎ ঘোষ ও নীলাঞ্জন পাত্র - এই চারজন ক্রমাগত আমার কাজে উৎসাহ দিয়ে গেছে! সকলের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা।

পরিশেষে, অলসতা কাটিয়ে, নিয়মিত ইউটিউব বা ওয়েবসাইট-এ ভিডিও বা প্রবন্ধ হয়ত প্রকাশ করতে পারব না! তবে ধারাবাহিকতার অভাব থাকলেও, কন্টেন্ট-এর গুণগত মানের দিকে আমার বিশেষ নজর থাকবে। যারা দেখবেন বা পড়বেন, ভালো লাগলে যা যা করতে হয়, করতে পারেন - নতুন করে বলার কিছু নেই। কোথাও ভুল মনে হলে, অনুগ্রহ করে ধরিয়ে দেবেন। গঠনমূলক সমালোচনা বা কোনো প্রশ্ন থাকলে, মন্তব্য করতে পারেন বা আমাকে ইমেল করতে পারেন - সময় করে উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব।

কথা অনেক হল। চলুন তাহলে পথ চলা শুরু করা যাক...

রাজা সাহা
অ্যাডমিন, পথ চলাতেই আনন্দ
পৌষ ১৪৩২